
বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের উত্তর বেতমোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফরোজা আক্তার কনার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি, বিদ্যালয়ের জমি জবরদখল ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আফরোজা আক্তার কনা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। এছাড়া তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকে ব্যক্তিগত কাজে সময় ব্যয় করেন বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। অভিযোগকারীরা আরও জানান, প্রধান শিক্ষকের স্বামী মিজানুর রহমান বাদল, যিনি সরিষামুড়ি ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য সচিব, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। যদিও সরকারিভাবে ৫ আগস্টের পর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ম্যানেজিং কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে, তবুও তিনি নিজেকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি দাবি করে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ—এই দম্পতি মিলে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম নিজেদের ইচ্ছেমতো পরিচালনা করেন। এছাড়া, এক ব্যক্তিকে দপ্তরির চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগও উঠেছে প্রধান শিক্ষক আফরোজা আক্তার কনার বিরুদ্ধে। অভিযোগ ওঠে, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা দেওয়ার হুমকি ও হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে। বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রধান শিক্ষকের আচরণ ও কর্মকাণ্ডে আমরা বিব্রত। তিনি বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করছেন। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার ফোন দেয়ার পরেও তাকে পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেতাগী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুত প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।