আবুল হাসনাত তুহিন ফেনী:-বৈষম্য বিরোধী মামলা হতে অব্যাহতি দেয়ার নামে “ওসি ডিবি ফেনী” হোয়াটস এপ একাউন্ট তৈরী করে প্রতারণা।প্রতারক চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার, ৯টি মোবাইল সেটসহ ৮১ টি মোবাইল সিম উদ্ধার। মর্ম সিংহ ত্রিপুরা, পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র), অফিসার ইনচার্জ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডি বি), ফেনী জেলা গত ১১/১০/২০২৫ তারিখে স্থানীয় গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পারেন যে মোবাইল সিম নং- ০১৭২৭****** ব্যবহার কারী অজ্ঞাত নামা আসামি ও আসামিদের, কয়েকদিন আগে হতে ফেনী ডিবি বা ওসি ডিবি পরিচয় দিয়ে অথবা ওসি ডিবির নাম “মর্ম সিংহ ত্রিপুরা” পরিচয়ে অজ্ঞাত নামা আসামিরা বিভিন্ন জনের সাথে প্রতারণা করে আসছে। পরবর্তীতে তিনি মোবাইল স্ক্রীন শর্টের ছবি পান যে, অজ্ঞাত নামা আসামী বা আসামীরা মোবাইল সিম নং-০১৭২৭****** টির মাধ্যমে Profile Picture এ বর্তমানে ও সি ডিবি হিসাবে কর্মরত মর্ম সিংহ ত্রিপুরা এর পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় চেয়ারে বসা হাফ ছবি এবং Cover Picture এ পুলিশের উর্ধতন অফিসারের সরকারী গাড়ীর ছবি আপলোড করে “ওসি ডিবি ফেনী” নামে হোয়াটস একাউন্ট খুলেছে। সরকারী কর্মকর্তা বা কর্মচারী না হয়েও অজ্ঞাত নামা আসামি বা আসামিরা প্রতারণার উদ্দেশ্যে মোবাইল ডিভাইসে মোবাইল সিম দ্বারা হোয়াটস এপ একাউন্ট খুলে পুলিশের পোষাক পরিহিত ছবি ব্যবহার/ আপলোড করে এবং পুলিশের গাড়ীর ছবি ব্যবহার/ আপলোড করে পুলিশ তথা সরকারী কর্মকর্তা বা কর্মচারী হিসাবে মিথ্যা পরিচয় দেয়। প্রাথমিক অনুসন্ধান, ঘটনার সহিত জড়িত আসামিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পর ফেনী জেলার ওসি ডিবি মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে ফেনী মডেল থানার মামলা নং ৬। তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ হন ডিবির এস আই তানিম।
ফেনী জেলার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান এর সার্বক্ষণিক নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-র অফিসার ইন চার্জ জনাব মর্ম সিংহ ত্রিপুরা এর প্রত্যক্ষ তদারকীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সহ ডিবি টিম অভিযানে নামে। অভিযান পরিচালনা করে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন,১। মোঃ জয়নাল (৪০), পিতা-আবু বকর, গ্রাম- ঘর দুয়ারা, থানা-রাউজান, জেলা-চট্টগ্রাম।২। মোঃ ইমরান (২৬), পিতা-মৃত ইসমাইল চৌধুরী, মাতা-রোশনারা বেগম, সাং-চৌধুরী বাড়ি, ঢেমশা দক্ষিণ ওমর পালা, ইউনিয়ন-নলুয়া, থানা-সাতকানিয়া, জেলা-চট্টগ্রাম এর নিকট হতে ৪ টি মোবাইল সেট সহ ৩। আরিফুল ইসলাম আরমান (১৮), পিতা মোঃ আলাউদ্দিন, মাতা মোছেনা আক্তার লিপি, সাং- মিয়াজী বাড়ি, দক্ষিণ আবুপুর, ইউনিয়ন-শর্শদি, থানা-ফেনী সদর, জেলা-ফেনী। প্রাথমিক ভাবে উক্ত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধের কথা স্বীকার করে। তাদের মোবাইল ফোন যাচাই করে এবং তাদের স্বীকারোক্তি মতে ৪। মাহাবুবুর রহমান (৫৬), পিতা-মৃত মোঃ হোসেন, গ্রাম- বিবিরহাট, সোহেল ম্যানশন, মুরাদপুর, থানা-পাঁচলাইশ, সিএমপি, চট্টগ্রাম এর নিকট হতে ০১ টি মোবাইল সেটসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। আসামিদের হেফাজত হতে ৮১টি সীম ও ৯টি মোবাইল পাওয়া যায়। মর্ম সিংহ ত্রিপুরা ওসি ডিবি ফেনী জানান,তাদের মোবাইল ফোন যাচাই করে এবং প্রাথমিক তদন্তকালে জানা যায় আসামি মাহবুবুর রহমান সহ আসামিরা প্রতারিত করার ভিকটিম এর নাম্বার সংগ্রহ করে। নিজেরা বিভিন্ন সিম ব্যবহার করে ভিন্ন ভিন্ন সরকারী অফিসারের নাম, ছবি বা লোগো আপলোড করে হোয়াটস এপ একাউন্ট তৈরী করে চাকুরী দেবার, মামলা হতে অব্যাহতি দেয়ার ইত্যাদি নাম করে ভিকটিমদের ফোন দিয়ে ও মেসেজের মাধ্যমে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেয়। জব্দ কৃত মোবাইলে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। ফেনী ওসি ডিবির নাম করে বৈষম্য বিরোধী মামলা হতে অব্যাহতি দেয়ার নাম করে কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। জব্দকৃত মোবাইলে পুলিশ অফিসারদের ডাউনলোড করা ছবি, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নামের তালিকা সহ মোবাইল নাম্বার পাওয়া যায়। এছাড়াও তারা সরকারী নিয়োগ ও বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে কার্য উদ্দরের কথা বলে গ্রাহকদের তথ্য সংগ্রহ করে প্রতারণা করে থাকে বলে জানা যায়। আসামিদের নামে পূর্বেও এমন প্রতারণা করার মামলা আছে। আসামিরা একটা বিশাল প্রতারক চক্র গড়ে তুলেছে মর্মে জানা যাচ্ছে। এ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। আসামীদের’কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।